দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর একদিকে যখন ধর্মতলায় রাস্তায় নেমেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক তখনই অন্যদিকে বিধানসভার অন্দরে স্পিকার বনাম তৃণমূল সংঘাত চরম আকার ধারণ করল। মঙ্গলবার বিধানসভায় স্পিকারের উদ্দেশে দেওয়া তৃণমূলের একটি চিঠি জমা নিতে সাফ অস্বীকার করল স্পিকারের সচিবালয়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিধানসভা চত্বরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ|মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় যান কুণালরা। স্পিকারের উদ্দেশে একটি চিঠি নিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক। কিন্তু কুণালের অভিযোগ, তাঁরা যে চিঠি দিতে চেয়েছিলেন, সেই চিঠি তিনি জমা নিতে অস্বীকার করেছেন স্পিকারের সচিব। তিনি জানিয়ে দেন, কোনও চিঠি আর তিনি রিসিভ করবেন না। আসলে সোমবার তৃণমূলের তরফে একটি চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেই চিঠি সচিব গ্রহণ করেন। অভিযোগ সেই চিঠি গ্রহণ করার পরই স্পিকারের সচিবকে নাকি স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিনি বিরোধী দলের কাছে থেকে কোনও চিঠি নিতে পারবেন না। সেকারণেই সচিব ওই চিঠি গ্রহণ করেননি।কুণালের স্পষ্ট অভিযোগ, স্পিকারের তরফ থেকে এমনকী বিধানসভার সচিবালয়ের থেকে স্পষ্ট স্পিকারের সচিবকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনও চিঠি তিনি রিসিভ করতে পারবেন না। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা চিঠিটি স্পিকারের সচিবের চেয়ারে পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে রেখে এসেছেন। এবং পুরো বিষয়টির ভিডিওগ্রাফি করেছেন। কুণালের বক্তব্য, “স্পিকার নিজে দেখা করতে চান না, আবার চিঠিও দেওয়া যাবে না, সেটা হয় নাকি!” এ প্রসঙ্গে স্পিকারের তরফে কোনও ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি। তবে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় জানালেন, “যেহেতু সই জাল নিয়ে একটা অভিযোগ উঠেছে, সিআইডি সেটার তদন্ত করছে, ফরেনসিক এক্সপার্টরা আসছে, সেকারণেই চিঠি জমা না নেওয়ার নির্দেশিকা থাকতে পারে। তবে স্পিকার যদি কোনও নির্দেশ দিয়ে থাকেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করা সমীচীন নয়।”এর আগে গতকাল সোমবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিটি স্পিকারের সচিব গ্রহণ করেন। এই চিঠি রিসিভ করার পরেই স্পিকারের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়, বিরোধী দলের কাছে থেকে কোনও চিঠি নিতে গ্রহণ করতে পারবেন না। নির্দেশ অনুযায়ীই বিরোধী দলের চিঠি এদিন গ্রহণ করেননি সচিব।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal