Breaking News

দলীয় সংকটের আবহে ওয়াই-চ্যানেলে মমতার শক্তি প্রদর্শন, ‘লড়াই থামবে না, আমাকেও থামানো যাবে না’!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-ভোট পরবর্তী হিংসা, রিগিং এবং এসআইআর সহ একাধিক ইস্যুর বিরোধিতা করে মঙ্গলবার পথে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়| ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন তিনি। আর সেখান থেকেই বিজেপিকে উৎখাত করার বার্তা দিলেন। মমতার হুঙ্কার, ”বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। বিজেপিকে সরিয়েই ছাড়ব।”মমতার অভিযোগ, দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ফেলে দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ হচ্ছে। তবে সেই চেষ্টা ‘বানচাল’ করে দেওয়ার বার্তা দিলেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘বেআইনি ভাবে আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলর, দলীয় প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।’’গত শনিবার সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্না মঞ্চ থেকে সেই প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ওটা গলির মধ্যে ছিল। হেলমেট না-দিলে পাথরটা ওর মাথায় লাগত।’’ তার পরেই হাসপাতালের ‘অসহযোগিতা’ নিয়ে সরব হন মমতা। তাঁর দাবি, ‘‘যখন সিরিয়াস অবস্থায় রোগী নিয়ে গেলাম তখন সিইও-র থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা বলছে। পুলিশ নার্সিংহোমকে থ্রেট করছে। পরে ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করল। তখন হাসপাতালের সিইও আমার কাছে এলেন। শোভন চট্টোপাধ্যায়ও ছিল আমার সঙ্গে। আমাদের বললেন, মাফ করবেন। আর চাপ নিতে পারছি না। ভয় দেখানো হচ্ছে।’’রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নার অনুমতি না-পাওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমাদের এখানে ধর্নায় মাইকের অনুমতি দেওয়া হয়নি। হ্যান্ড মাইক নিয়ে বলতে হচ্ছে। এ ভাবে আমাকে আটকাতে পারবে না। যেখানে পারব বসে পড়ব। বাবা সাহেব অম্বে়ডকরের মূর্তিতে মালা দিতে কি আমাকে আটকাতে পেরেছে না জানতে পেরেছে? সংবিধান নিয়ে গিয়েছিলাম। মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শপথ নিলাম— এই অত্যাচার যত দিন চলছে, তত দিন মোকাবিলা করব। করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে (করব নয়তো মরব)।’’ মমতার অভিযোগ, ‘‘আমাকে মারা হয়েছে। ভোট লুট হয়েছে।’’সোমবার ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই ভিডিও বার্তায় তাঁর অভিযোগ ছিল, ভয়, প্রলোভন এবং প্রশাসনিক চাপকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দল ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই – তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করা এবং দলের মধ্যে ভাঙন ধরানো। এদিন ধর্না মঞ্চ থেকেও একই অভিযোগ করেন তিনি।মমতার সঙ্গে ছিলেন শোভনদেব চ্যাটার্জি, নয়না ব্যানার্জি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, অশোক দেবের মতো পুরনো তৃণমূল নেতারা। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাও। কয়েকদিন আগে দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বেশিরভাগ বিধায়ক। তাই ধর্না কর্মসূচিতে কত লোক হবে তা নিয়ে সন্দিহান ছিল তৃণমূলে। দলের ফেসবুক হ্যান্ডল থেকে কর্মীদের ওয়াই চ্যানেলে সমবেত হওয়ার ডাকও দেওয়া হয়েছিল। এদিন ধর্নাস্থলে মমতা পৌঁছনোর পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন কর্মী-সমর্থকরা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *