দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যের পরিবহণ ও জলপথ পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল নবান্ন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, দেশের ১৮তম শহর হিসেবে কলকাতায় চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিষেবা। একইসঙ্গে তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক এবং জাতীয় জলপথ দফতরের মধ্যে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমনই একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে । এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, শিপিং দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান । রাজ্য সরকারের পক্ষে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে শিল্প, পরিবহণ, সেচ, পূর্ত দফতর এবং কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকরা অংশ নেন । উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক বিধায়ক এবং মন্ত্রীও । কেন্দ্র এবং রাজ্যের সমন্বয়ে এ দিন মূলত রাজ্যের পরিকাঠামো, পর্যটন এবং পরিকাঠামো নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক দিশা নির্ধারিত হয়েছে ।”শুভেন্দু জানান, সাগরমালা প্রকল্প নিয়ে বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের যুক্ত না-হওয়ার যে আক্ষেপ ছিল, তা ঘুচিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুমোদিত ‘সাগরমালা 2’ প্রকল্পে রাজ্য সরকার সদর্থকভাবে যুক্ত হয়েছে । আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রায় ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হবে । এর আওতায় পোর্ট কানেক্টিভিটি, কোস্টাল শিপিং, উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলির সামগ্রিক বিকাশ ঘটানো হবে । সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা থেকে শুরু করে বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ হয়ে একেবারে ওড়িশা সীমান্ত সংলগ্ন উদয়পুর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে । একইসঙ্গে সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, গোসাবা, বাসন্তী এবং ঝড়খালির মতো উপকূলীয় দ্বীপগুলির উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal