প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই শোনা গিয়েছিল তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হবে। তার ফলে বদলে যাবে তাজপুরের চেহারা। বাড়বে কর্মসংস্থান। তবে সে প্রকল্প আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর এই বিষয়ে নজর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার করণ আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে সেই আলোচনার পর বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়া সম্ভব নয়। বিকল্প হিসাবে দাদনপত্রবাড়ে হতে পারে গভীর সমুদ্রবন্দর। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যাপ্ত জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করা আর সম্ভব নয়। এই বিষয়ে গত বুধবার আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষ কর্তা করণ আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আলোচনার নির্যাস টেনে বৃহস্পতিবার তিনি জানান, জমির অভাবেই আদানিরা এক সময় তাজপুর প্রকল্প থেকে কার্যত সরে গিয়েছিলেন। তবে শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে এই প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে না নতুন সরকার। তাজপুরের বিকল্প হিসেবে এবার বেছে নেওয়া হয়েছে দাদনপাত্রবারকে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবারে ১৭০০ একর জমি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এবার সেই জমিতেই গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত এগোবে।”প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রিনফিল্ড প্রযুক্তিতে বন্দর তৈরি হওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। এর পরিকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ হওয়ার কথা ছিল আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদানিদের এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক আগ্রহপত্র বা লেটার অফ ইনটেন্ট তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম কর্ণধার করণ আদানির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এরপর একাধিকবার এই গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জল্পনা দানা বাঁধে। কাজেও সেভাবে অগ্রগতি আসেনি।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দাদনপত্রবারে গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠলে পূর্ব ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে । শুধু আমদানি-রফতানি নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হবে গুদাম শিল্প, লজিস্টিক হাব, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ | রাজ্য সরকারের আশা, কেন্দ্রের সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্রই বদলে যেতে পারে ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal