Breaking News

দিল্লিতে মমতা-অভিষেক, আর কলকাতায় CID-র তৎপরতা! কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে একযোগে তল্লাশি ঘিরে চাঞ্চল্য

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে মঙ্গলবার নতুন মোড় নিল ঘটনাপ্রবাহ। দুপুরে কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছয় সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দল। একই সময়ে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসেও হাজির হন তদন্তকারীরা। মামলার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য ও স্বাক্ষর সংগ্রহ সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি অভিযান বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ একাধিক আধিকারিক ও মহিলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে পৌঁছয় সিআইডির দল। তদন্তকারীদের দাবি, এর আগে পাঠানো নোটিসের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই কার্যালয়ে সরেজমিনে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে সিআইডির দল পৌঁছনোর পরই শুরু হয় টানাপোড়েন। কার্যালয়ের গেটের বাইরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তদন্তকারীদের। পরে বাইরে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ও দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকলেও কোনও তল্লাশির অনুমতি দিতে পারবেন না।
অন্যদিকে, সিআইডি আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁরা আইন মেনেই তদন্তের স্বার্থে এসেছেন এবং কার্যালয়ে কে উপস্থিত আছেন, তার সঙ্গে তল্লাশির কোনও সম্পর্ক নেই। তদন্তকারীরা অভিষেককে পাঠানো নোটিসের কপিও দেখান এবং তল্লাশির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তবুও দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ চলতে থাকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট শুধু তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ই নয়, একই ঠিকানায় রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনও। সেই কারণেই সিআইডির এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর বিকেল চারটের কিছু পরে তদন্তকারী দলকে কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় নথি খতিয়ে দেখা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ। সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এই তল্লাশি কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *