নিজস্ব সংবাদদাতা :-বাড়ির চেয়ারে বসে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। সামনে ক্ষুব্ধ জনতার ভিড়, একের পর এক অভিযোগের সুরে সরব তাঁরা। উত্তেজনার মধ্যেই আচমকা উড়ে আসে একটি ডিম, যা সোজা গিয়ে লাগে প্রাক্তন মন্ত্রীর কপালে। মুহূর্তে ডিমে মাখামাখি হয়ে যায় তাঁর মুখ ও মাথা। মঙ্গলবার কৃষ্ণনগরে নিজের বাড়িতে এমনই বিক্ষোভ ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ আরও, ওই ত্রাণসামগ্রী গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ির সামনে একটি গাড়িতে সরকারি ত্রিপল তোলা হচ্ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। সেই দৃশ্য নজরে আসতেই সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এরপরই বহু মানুষ বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু ত্রিপল নয়, বাড়ি থেকে কম্বল, সাদা থান-কাপড়-সহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রীও পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ এই সামগ্রী কেন প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল? সেই প্রশ্ন ঘিরেই ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পরে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী সরকারি না ব্যক্তিগত, সরকারি হলে কেন তা বাড়িতে রাখা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে এই সামগ্রী মজুত ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলার উপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, উজ্জ্বল বিশ্বাসের বক্তব্য শোনার আবেদন জানানোয় তাঁকে লক্ষ্য করে চড়াও হন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। পরে পুলিশ তাঁকেও উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।অন্যদিকে বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, একটি বড় গাড়িতে করে সরকারি ত্রাণসামগ্রী পাচারের চেষ্টা চলছিল এবং তা হাতেনাতে ধরা পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছিল এবং পরে তা অন্যত্র বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। তাঁর দাবি,“বছরে দুর্গাপুজোর সময় এবং ইদের সময় দুইবার এই সরকারি ত্রাণগুলো আমাদের কাছে আসে। তবে দূর্গা পূজার যে ত্রাণ সেগুলো আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করে দিয়েছি। যেহেতু ভোটের মধ্যে ইদ ছিল আর সেই ত্রাণ গুলো বিলি করা সম্ভব হয়নি। আমি পরবর্তীকালে জেলাশাসক এবং ভিডিওর সঙ্গে কথা বলে ত্রাণ গুলি প্রশাসনের দফতরে পাঠানোর চেষ্টা করছিলাম।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal