Breaking News

তৃণমূলে কি বাড়ছে বিদ্রোহ? ‘৬৪ পেরিয়েছে সংখ্যা, আমরা কংগ্রেসে মিশছি না, আমরাই আসল তৃণমূল’—বিস্ফোরক ঋতব্রত!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে। এই আবহেই বুধবার বিধানসভার সামনে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬৪-এর গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছি না, ভবিষ্যতেও সেই ধরনের কোনও পরিকল্পনা নেই। আমরা তৃণমূলের আদর্শ ও সংগঠনকে নিয়েই এগোচ্ছি। আজ সংখ্যা ৬৪ পেরিয়েছে, আগামীকাল হয়তো আরও বাড়বে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘‘আমরা পরিষদীয় দল হিসেবে একজোট রয়েছি। কে কোথায় কার সঙ্গে বৈঠক করল বা কার সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করল, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমরা কংগ্রেসে মিশছি না এবং আমাদের অধিকাংশ বিধায়ক, সাংসদ ও জনপ্রতিনিধিও সেই অবস্থানেই রয়েছেন।’’
ঋতব্রতের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বিধায়ক নন, দলের বহু সাংসদও বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থানের সঙ্গে একমত। তাঁর দাবি, জেলা পরিষদ, পুরসভা এবং বিভিন্ন স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশও এই শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। ফলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বক্তব্যের পর থেকেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয় কয়েকজন প্রভাবশালী সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। সেই তালিকায় উঠে এসেছে মালা রায় ও সায়নী ঘোষের নামও। রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো, খুব শীঘ্রই তাঁরাও বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই দলের পুরনো সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই নতুন কমিটিতে মালা রায় ও সায়নী ঘোষ দু’জনেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও তাঁদের নাম বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরের ঐক্য নিয়ে। এই প্রসঙ্গ টেনেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের ধরনকে কটাক্ষ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পর একদিকে যেমন জাতীয় রাজনীতিতে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে, তেমনই অন্যদিকে বাংলার রাজনৈতিক অন্দরে তৃণমূলের ভিতরে বাড়তে থাকা মতভেদ ও বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। আগামী কয়েকদিনে আরও কেউ শিবির বদল করেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *