Breaking News

হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখতে অন্তবর্তীকালীন স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের!১৭ জুন পর্যন্ত স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-আপাতত হকার উচ্ছেদ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলের হাতে থাকা জমিতে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে ৷ আদালতের নির্দেশ ১৭ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থগিত রাখতে হবে ৷ এই সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেওয়া যাবে না ৷
এর আগে যাদবপুর, হাওড়া, কোন্নগর, ডানকুনি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা ৷ উচ্ছেদের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হকাররা ৷ সেই সমস্ত মামলার শুনানি হবে ১৭ জুন ৷ শুনানির আগে ভাঙচুর করা বা অন্য কোনও পদক্ষেপ গ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য ১৭ জুন এই মামলার শুনানি করবেন।সম্প্রতি যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বসে থাকা হকারদের সরাতে প্রশাসন অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানকে ঘিরে স্থানীয় হকারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় | রবিবার গভীর রাতে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় হকার ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বহু হকার অভিযোগ করেন, তাঁদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম এই ব্যবসা। কোনও বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এর ফলে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হকারদের পক্ষে আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মামলাটি গ্রহণ করেন এবং হকারদের মামলা দায়েরের অনুমতি দেন। শুনানিতে হকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন এবং তাঁদের জীবিকা সম্পূর্ণরূপে এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে হাজার হাজার মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি ও রেলের জমি দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সেই কারণেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *