প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও তীব্র হল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল। দলের প্রতীকে জয়ী কয়েক জন বিধায়ক সেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যে মামলা হয়েছিল, তাতে সওয়াল করে এ কথাই জানালেন মামলাকারী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ-ও জানান, ঋতব্রতকে যে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও পাবলিক নোটিস (বিজ্ঞপ্তি) দেওয়া হয়নি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার। এই মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে আদালতে।বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত বিধানসভার প্রচলিত রীতি ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি তিনি স্পিকারের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশও চেয়েছেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত তৃণমূল পরিষদীয় নেতা শোভনদেব মামলাটি করতে চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। মামলায় যুক্ত রয়েছেন মমতা, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত নিজেও। বৃহস্পতিবার শুনানিতে কল্যাণের সওয়াল, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করা নিয়ে কোনও পাবলিক নোটিস দেওয়া হয়নি। প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।এরপরে কল্যাণের সওয়াল, গত ৬ মে বৈঠক ডেকে রেজ়োলিউশন করে তৃণমূল। তার ভিত্তিতে ১৯ মে সই করা হয়। ৭০ জন বিধায়ক তাতে সই করেন। ৬ মে যখন রেজ়োলিউশন করা হয়, সে দিন শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করার কেউ বিরোধিতা করেননি। ২৮ মে স্পিকারের কাছে রেজ়োলিউশন পাঠানো হয়। ১ জুন ঋতব্রত, সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। ৩ জুন তাঁরা স্পিকারকে জানান, রেজোলিউশনে সই জাল করা হয়েছে।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে আরও বলেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমনকি স্পিকারকে স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাতেও তিনি বিরোধী দলনেতার ভূমিকাতেই উপস্থিত ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কেন এবং কী ভিত্তিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদে স্বীকৃতি দেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি জানতে চান, যদি কোনও রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বহিষ্কার করে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি কীভাবে বিরোধী দলনেতার পদে আসীন হতে পারেন? একই সঙ্গে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর স্পিকারের তরফে কেন কোনও পৃথক বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়নি।অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে সময় চাওয়া হয়। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্লোদল ভট্টাচার্য জানান, স্পিকারের অবস্থান এবং সিদ্ধান্তের পক্ষে বিস্তারিত বক্তব্য আদালতের সামনে তুলে ধরার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত হলফনামা দাখিল করতে চায় রাজ্য। সেই কারণে কিছু সময়ের আবেদন জানানো হয়। আদালত রাজ্যের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ জুন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal