দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। আরজি কর-কাণ্ডের পর সেই সংকট আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে। সরকারি হাসপাতালে শয্যার অভাব, রেফার রোগ এবং দালালচক্রের অভিযোগে সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকটাই নড়বড়ে হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরানো এখন নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
দফতরের দায়িত্ব গ্রহণের পরই স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর শারদ্বত ঘোষণা করেন, এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও সাধারণ রোগীদের জন্য বিনামূল্যে শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালকে মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষিত রাখতে হবে, যেখানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এই সুবিধা পেতে আয়ুষ্মান ভারত বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য কার্ডের প্রয়োজন হবে না, আধার কার্ড থাকলেই মিলবে সুযোগ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কারণ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়। নতুন এই উদ্যোগে সেই আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।মন্ত্রী হওয়ার দ্বিতীয় দিনেই বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৈঠকের পর তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে শয্যার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের অন্যত্র রেফার করতে হয়। এবার থেকে কোনও সরকারি হাসপাতালে বেড না থাকলে রোগীকে নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে সংরক্ষিত ১০ শতাংশ শয্যার মাধ্যমে রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।
শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বেসরকারি হাসপাতালগুলির কাছে ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণের অনুরোধ করেছি। এই শয্যাগুলি সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের জন্য রাখা হবে। কোনও হাসপাতালই এই ধরনের রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal