Breaking News

লেনিন-মার্কসের নামে রাস্তা বদলের প্রস্তাব! নতুন দায়িত্ব নিয়েই পুরসভায় বসে বড় ইঙ্গিত কার্তিক মহারাজের

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-কলকাতা পুরসভায় এবার থেকে নির্দিষ্ট ঘরেই বসবেন রাজ্য সরকারের তৈরি রাস্তা, সেতু ও জনবহুল স্থানের নামকরণ-পর্যালোচনা কমিটির চেয়ারম্যান স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ, যিনি কার্তিক মহারাজ নামে পরিচিত। সোমবার পুরসভা ভবনে নিজের নতুন দফতরে বসেই কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। ফলে শহরের বেশ কয়েকটি পরিচিত রাস্তার নাম বদল নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের গঠিত ১০ সদস্যের এই কমিটির কাজ হল বিভিন্ন রাস্তা, সেতু, অ্যাভিনিউ এবং জনবহুল জায়গার নামকরণ বা পুনর্নামকরণের প্রস্তাব খতিয়ে দেখা। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিচার করেই সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলির বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।
কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম বদলের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই এসেছে। আলোচনায় রয়েছে লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি এবং হো চি মিন সরণির নামও। তবে কোনও রাস্তার নাম এখনও চূড়ান্তভাবে বদলে দেওয়া হয়নি। প্রস্তাবগুলি নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা ও পর্যালোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
ইতিমধ্যেই বিকল্প নাম নিয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, লেনিন সরণির ক্ষেত্রে দেবপ্রসাদ ঘোষের নাম এবং কার্ল মার্কস সরণির ক্ষেত্রে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বা রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের প্রস্তাব রয়েছে। হো চি মিন সরণির নাম নিয়েও বিকল্প প্রস্তাবের কথা উঠে এসেছে। তবে এগুলি বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে থাকা প্রস্তাব, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
‘বিশ্ব বাংলা সরণি’র নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম নিয়েও প্রস্তাব আসতে পারে। কমিটির সুপারিশ পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন কমিটির কাজ পরিচালনার জন্য কলকাতা পুরসভা ভবনে কার্তিক মহারাজকে স্থায়ী অফিসও দেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, আগে ওই ঘরটি মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারের ব্যবহারে ছিল। সংস্কারের পর সেটিই এখন রাস্তা পুনর্নামকরণ কমিটির চেয়ারম্যানের দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ফলে কলকাতার পরিচিত রাস্তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে ঘিরে ফের নতুন বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। এখন নজর কমিটির প্রথম বৈঠকের দিকে—কোন কোন প্রস্তাব আলোচনায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত কোন নামগুলি সুপারিশ করা হয়, সেটাই দেখার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *