Breaking News

৪০০-র বেশি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক, ‘রাজনীতি-মুক্তি’ থেকে বেআইনি কাজ—কড়া নির্দেশ পদ্ম নেতৃত্বের

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বার্তা আগেই দেওয়া হয়েছিল। এবার কলেজগুলির নবনিযুক্ত পরিচালন সমিতির সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করে সেই অবস্থান আরও এক বার স্পষ্ট করল বিজেপি নেতৃত্ব। মঙ্গলবার জাতীয় গ্রন্থাগারের একটি প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত বৈঠকে কলেজগুলির পরিচালন সমিতির কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতিকে প্রাধান্য না দেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৪০০-র বেশি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতিদের নাম ঘোষণা করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর। কয়েকটি ব্যতিক্রম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিধায়ক, সাংসদ এবং বিজেপি ও দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের বর্তমান বা প্রাক্তন পদাধিকারীদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিজেপির পুরনো প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের বক্তব্য, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় এসে কেন রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে যে রাজনৈতিক প্রভাব ঢুকে পড়েছে, তা সরিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক পরিবেশে ফেরাতে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও প্রয়োজন রয়েছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে অবশ্য পরিচালন সমিতির সভাপতিদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, কলেজে দলীয় রাজনীতির প্রভাব কমিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করার বিষয়টিতে জোর দেন শমীক ভট্টাচার্য। অন্য দিকে, পরিচালন সমিতির সভাপতিদের দায়িত্ব ও কাজের ক্ষেত্রে কোন কোন আইন এবং নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা ব্যাখ্যা করেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী।
বৈঠকের পর রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র এবং ভাঙড় কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি সায়ন্তন বসু বলেন, বিজেপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে না। তাঁর দাবি, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বিষয়টি বৈঠকে রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। একই সুর শোনা যায় রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সহ-সভাপতি তথা হেরম্বচন্দ্র কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি রাজকমল পাঠকের বক্তব্যেও। তাঁর কথায়, বহু কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। ভর্তি হওয়ার পরেও অনেকে নিয়মিত কলেজে আসতে চাইতেন না। সেই পরিস্থিতি বদলাতে কলেজের পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি পড়াশোনার মান বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। রাজকমলের বক্তব্য, পরিচালন সমিতির কাজের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে কলেজের স্বার্থ এবং শিক্ষার পরিবেশকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বৈঠকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *