Breaking News

অনলাইন ওপিডি টিকিটের নামে প্রতারণা! এসএসকেএমে দালালচক্রের হদিশ, পুলিশের জালে ৩

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-ফের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে দালালচক্রের অভিযোগ। অনলাইনে ওপিডি টিকিট করে দেওয়ার নাম করে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং জাল টিকিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দু’জন হাওড়ার বাসিন্দা। অভিযুক্তদের একজন হাসপাতালের বাইরে জেরক্সের দোকান চালাতেন বলে জানা গিয়েছে। আগে এসএসকেএমের ওপিডিতে দেখাতে হলে হাসপাতালেই এসে টিকিট কাটতে হত। বর্তমানে অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অনেক বয়স্ক মানুষ কিংবা স্মার্টফোন ব্যবহারে অনভ্যস্ত রোগী ও তাঁদের পরিজন অনলাইন প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়েন। পুলিশের অভিযোগ, সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছিল অভিযুক্তরা।
ধৃতদের নাম আশাদ আলি, মহম্মদ সাহিদ এবং ভিহিদ আহমেদ। আশাদ আলি দক্ষিণ কলকাতার চামরু খান লেনের বাসিন্দা। বাকি দু’জন হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকার লিচুবাগানের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার পরই ভবানীপুর থানার ওসি সৌমিত্র বসুর নির্দেশে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা একা নয়, আরও কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্র চালাত। হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী এবং তাঁদের পরিজনরাই ছিল মূল নিশানা। টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়িয়ে দ্রুত ওপিডি টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হত তাঁদের। অভিযোগ, রোগী বা পরিজনরা রাজি হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনলাইন টিকিট বুক করার পরিবর্তে জাল আউটডোর টিকিট তৈরি করে দেওয়া হত। সেই টিকিট হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে আসল বলে দেখানোর চেষ্টা করা হত। বিনিময়ে টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এইভাবে একাধিক রোগীর পরিজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, এর ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবার যেমন প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন, তেমনই সরকারি রাজস্বেরও ক্ষতি হচ্ছিল।প্রাথমিক তদন্তে ধৃতদের সঙ্গে একটি জেরক্সের দোকানের যোগ পাওয়া গিয়েছে। তবে এর পিছনে আরও বড় একটি চক্র কাজ করছে বলে পুলিশের সন্দেহ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজ শুরু করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *