দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-‘শস্যগোলা’ পূর্ব বর্ধমানে দাঁড়িয়ে কৃষকদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বর্ধমানের পুলিশ লাইন মাঠে প্রশাসনিক সভা থেকে ধান কেনা, কৃষিকাজে বিদ্যুৎ, কৃষক বন্ধু, প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি এবং আলুচাষিদের জন্য একাধিক সুবিধার কথা জানান তিনি।ধান কেনার ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সহায়ক মূল্যের সঙ্গে প্রতি কুইন্টালে আরও ২০০ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ কুইন্টাল প্রতি মোট ২৭০০ টাকা পাবেন কৃষকেরা। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কেনা হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনও মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না বলে জানান তিনি। ধান বিক্রির ক্ষেত্রেও কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। কৃষিকাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পাম্পসেট নিয়েও সুবিধার ঘোষণা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের চার লক্ষের বেশি কৃষক প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে দু’টাকা করে ভর্তুকি পাবেন। এর ফলে কৃষকদের বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। এই খাতে রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধির ক্ষেত্রেও রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের বছরে ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য আরও ৩ হাজার টাকা দেবে বলে জানান তিনি। ফলে কৃষকেরা বছরে মোট ৯ হাজার টাকা পাবেন। এই সুবিধায় রাজ্যের প্রায় ৫৪ লক্ষ কৃষক পরিবার উপকৃত হবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের যাচাইয়ের কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথাও জানান তিনি। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, এক শতক জমি থাকা কৃষকেরাও বছরে এককালীন ৪ হাজার টাকা পাবেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধির সুবিধা না পাওয়া এবং ৪০ শতকের বেশি কৃষিজমি থাকা কৃষকদের বছরে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আলুচাষিদের জন্যও বিশেষ প্যাকেজের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ভর্তুকি, সরকারি উদ্যোগে সার সরবরাহ-সহ একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তায় সমবায়, ক্ষুদ্র সেচ এবং উদ্যানপালন ক্ষেত্রকে আরও যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও বলেন।এদিন ১২৫ দিনের কাজের আওতায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাছ লাগানো ও তার রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণ, পুকুর সংস্কার, আইসিডিএস কেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল এবং সেচের কাজ-সহ মোট ৩১৭ ধরনের কাজ করা যাবে। প্রত্যেক জব কার্ডধারীকে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি হিসেবে বছরে সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal