প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- কলকাতার পূর্ব যাদবপুর থানার অন্তর্গত মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যা নগরে বৃহস্পতিবার সকালে এক বিএলও-র অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম অশোক দাস। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে স্নানঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান বাড়ির লোকেরা। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহরু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। বাংলায় চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআরে বিএলও’র দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফ.পি. স্কুলের ১১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রের বিএলও হিসাবে কর্মরত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাড়িতেই ঝুলন্ত অবস্থায় বাড়ির লোকজন দেখতে পান। সঙ্গে তাঁকে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা অশোক দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত বিএলও’র দিদি জানিয়েছেন, এসআইআর সংক্রান্ত চাপ ছিল। পাড়ায় চাপ ছিল। কীভাবে মৃত্যু তা তদন্ত করে দেখা উচিৎ। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। তিনি বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সময়ক্রম ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে এবং ঘরের ভেতরের পরিবেশ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তদন্তকারী আধিকারিকেরা স্নানঘরের দরজা, ফ্যানের হুক, দড়ি বা কাপড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের কল ডিটেল্স, কর্মস্থলের নথি ও সাম্প্রতিক নোটিস সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সম্ভাব্য চাপ, মানসিক অবস্থা ও অন্য কোনও সংশ্লিষ্ট কারণের সূত্র খোঁজার কাজ চালাচ্ছেন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal