দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-বুধবার আইপ্যাক মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। এদিন বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। ইডির দায়ের করা মামলার বৈধতা নিয়ে বিস্তারিত শুনানি চলে এদিন।সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল রাজ্য। বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মূলত তিনটি আইনি প্রশ্ন তুলে এই মামলায় সওয়াল করেন রাজ্যের আইনজীবীরা। তাঁদের প্রশ্ন, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে ইডি কি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে? সরকারি সংস্থা হয়েও কি তারা মৌলিক অধিকার দাবি করতে পারে? তা ছাড়া, কেন্দ্রীয় সংস্থা হয়েও কী ভাবে ইডি সরকারের বিরুদ্ধেই মামলা করতে পারে, তা নিয়েও রাজ্যের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়।রাজ্যের বক্তব্য, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ব্যক্তির হতে পারে। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কী করে এই অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলতে পারে? রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করতে গেলে মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন থাকতে হবে। কিন্তু তা শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু ব্যক্তির বাইরে কারও মামলা করার কোনও অধিকারই নেই।” মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিওয়ান এ-ও বলেন যে, “এখানে ইডি মানে কেন্দ্রীয় সরকার মামলা করেছে। ফলে আদালতকে দেখতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার আদৌ অভিযোগ করতে পারে কি না যে, কোনও রাজ্য সরকার তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।”কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ হয়েও মামলায় ইডি কেন্দ্রকেও পক্ষ (পার্টি) করেছে। রাজ্যের বক্তব্য, কেন্দ্রের একটি বিভাগ হয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা করে স্ববিরোধী কাজ করেছে ইডি। রাজ্যের আইনজীবী দিওয়ান বলেন, “ইডি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ। এখানে মামলা করেছেন ইডির ডিরেক্টরেট। ফলে আইনের মধ্যে থেকেই কোনও ডিরেক্টরেটকে মামলা করতে হবে।” রাজ্যের আইনজীবী দিওয়ান জানান, যদি কোনও সরকারি দফতরকে সরাসরি মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদের যে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে যাওয়া হবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal