Breaking News

সুরের জগতে নক্ষত্র পতন!প্রয়াত আশা ভোঁসলে, ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পীর

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। শেষ হলো একটি অধ্যায়ের। রবিবার মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মেলোডি ক্যুইন।মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। ১১ এপ্রিল, শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। জানা গিয়েছিল বর্ষীয়ান গায়িকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে তড়িঘড়ি আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু চেষ্টা বিফলে। না ফেরার দেশে আশা ভোঁসলে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. প্রতীত সামদানি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাল্টিপল অর্গান ফেলিওরের কারণে আশা ভোঁসলের মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামিকাল বিকেল ৪টের সময় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে আশা ভোঁসলের।১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে সঙ্গীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথমবার সিনেমায় গান গেয়েছিলেন তিনি। মারাঠি ছবি ‘মাজা বাল’ সিনেমায় গেয়েছিলেন ‘চালা চালা নাভ বালা’। সেই থেকে শুরু। আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি।’ও হাসিনা জুলফোবালি’-র মতো গান যেমন গেয়েছেন, তেমনই ‘দিল চিজ় ক্যায়া হ্যায়’র মতো গজল ও বিভিন্ন ক্লাসিক্যাল গানও গেয়েছেন। শর্মিলা ঠাকুর, আশা পারেখ, রেখা, উর্মিলা মাতোন্ডকার, করিশ্মা কপূর, ঐশ্বর্য্য রাই বচ্চন- বলিউডের বিভিন্ন সময়ের অভিনেত্রীদের কণ্ঠে গান গেয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে তিনি শেষ হিন্দি সিনেমায় গান গেয়েছিলেন। ৯১ বছর বয়সে ‘সাইয়া বিনা’ গান প্রকাশ করেন। এই গান তাঁর প্রয়াত স্বামী তথা সঙ্গীত পরিচালক আরডি বর্মনকে উৎসর্গ করেছিলেন।
১৯৮১ সালে তিনি উমরাও জান সিনেমায় গান গাওয়ার জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে ইজাজত সিনেমার জন্য দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর ২০০০ সালে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পান। ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ পান।কিন্তু গানের জগতে লাইমলাইট যেমন তাঁর নিত্যসঙ্গী হলেও, ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা সুখকর ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে ঘর বাঁধলেও তা সুখের হয়নি। পরবর্তীতে রাহুল দেব বর্মণকে ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গজল থেকে শুরু করে ক্যাবারে সবক্ষেত্রেই তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। তাঁর কালজয়ী কণ্ঠেই অমর হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে।আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সমাপ্তি ঘটল ভারতীয় সঙ্গীতের একটি যুগের। সুরের জগতে এই নক্ষত্র পতনে যে শূন্যতা তৈরি হলো তা অপূরণীয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *