নিজস্ব সংবাদদাতা :- দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ফের উত্তপ্ত ক্যানিং। ক্যানিং পশ্চিমের ১১২ নম্বর বুথে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। এই ঘটনায় এলাকায় দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ ভোটাররা।স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই বুথে পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। অভিযোগ, ভোট চলাকালীন হঠাৎই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ঘটনার পরেই উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।বিক্ষোভকারীদের একাংশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলে এবং উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
এই পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা চরম অসুবিধার সম্মুখীন হন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এসেও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভোট দিতে এসে এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, পঞ্চায়েত প্রধানের উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। শাসকদল এই ঘটনাকে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই অশান্তি তৈরি হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal