Breaking News

ফসল বিমায় বাংলার বড় সাফল্যের দাবি! ৩২ লক্ষ কৃষক নথিভুক্ত, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণে বিমা সংস্থাগুলিকে নির্দেশ

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় (PMFBY) কৃষকদের নথিভুক্তির নিরিখে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য সরকারের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩২ লক্ষ কৃষককে এই ফসল বিমার আওতায় আনা হয়েছে। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বিমার প্রিমিয়ামের বড় অংশ রাজ্য সরকারই বহন করছে। একই সঙ্গে আগস্টের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে বিমা সংস্থাগুলিকে অবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই তথ্য জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে কৃষকদের ফসল বিমার আওতায় নথিভুক্ত করার কাজ হয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলিতেও কৃষকদের মধ্যে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে ৭.২৩ লক্ষ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪.৭৩ লক্ষ, হুগলিতে ১.৬৮ লক্ষ এবং ঝাড়গ্রামে প্রায় ৪২ হাজার কৃষক এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকদের সুবিধার জন্য আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ শিবিরও করা হয়েছিল। ১ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ২.৫০ একর পর্যন্ত জমির ক্ষেত্রে কৃষকদের মাত্র ১ টাকা প্রতীকী প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। ১ থেকে ২ হেক্টর জমির ক্ষেত্রে একর পিছু ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে কৃষকদের। বাকি প্রিমিয়ামের অর্থ বহন করছে রাজ্য সরকার।
এদিকে আগস্টের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত বিমার টাকা পাইয়ে দিতে বিমা সংস্থাগুলিকে ‘মিড-সিজন অ্যাডভার্সিটি’ মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়া কৃষকদের নথিভুক্তির সময়সীমাও ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, ২০১৯-২০ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় কৃষকদের নথিভুক্তিকরণ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে রাজ্যের কৃষকেরা দীর্ঘদিন এই বিমা সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের স্বার্থে ফের এই ফসল বিমা সুবিধা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *