দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল হলদিয়া আদালত। শনিবার আদালতে তাঁকে হাজির করানো হলে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খেজুরি থানায় দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় আগামী সোমবার মিলনকে কাঁথি আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে।
শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কংগ্রেসের দাবি, একটি সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলার সূত্রেই এই গ্রেফতারি। শনিবারই নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। ফলে প্রার্থী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন কি না। তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেনি।
মিলনের গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, এত বছর আগের মামলা হঠাৎ সামনে এনে নির্বাচনের সময় প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হলদিয়া আদালতের বাইরে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা সচিব অজিতেশ পাণ্ডে বলেন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী প্রায় ১৯ বছর ধরে মিলনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরই কীভাবে তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেল?
অজিতেশ আরও জানান, মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। খেজুরি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার কারণে আগামী সোমবার তাঁকে কাঁথি আদালতে হাজির করানো হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রার্থী জেলে থাকলেও কংগ্রেস নন্দীগ্রামে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবে।
প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে প্রচারের দায়িত্ব দলের কর্মীদের উপরেই দেওয়া হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। এলাকায় লিফলেট বিলি-সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলের। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেও নজর রাখছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। ৩ অক্টোবর যদি মিলন জামিনে মুক্তি পান, সেক্ষেত্রেও ভোটের আগে প্রচারের জন্য তাঁর হাতে সময় থাকবে খুবই কম। আর জামিন না মিললে জেল হেফাজতে থেকেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থিত্ব বজায় রাখতে হবে তাঁকে। ফলে শেষ মুহূর্তে মিলন প্রধানের নির্বাচনী প্রচার কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal