Breaking News

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর খালি করার নোটিস নিয়ে বড় নির্দেশ হাই কোর্টের! মামলা ফের নিম্ন আদালতে, ১৫ দিনের সময়সীমা

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় দফতর খালি করার জন্য বাড়ির মালিকের দেওয়া নোটিসকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলা ফের নিম্ন আদালতে পাঠিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সন্দীপকুমার দে-র ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পুজোর ছুটি শেষে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, মামলাটিতে একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত শুনানির প্রয়োজন রয়েছে। তাই সিটি সিভিল কোর্টেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুনানির ক্ষেত্রে কোনও পক্ষের প্রতি পক্ষপাত করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর আগে সিটি সিভিল কোর্টের বিচারপতি সুধীর কুমার নির্দেশ দিয়েছিলেন, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে ‘স্টেটাস কো’ বজায় থাকবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বাড়ির মালিকপক্ষ। বুধবার সেই মামলাতেই নিম্ন আদালতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ। ৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় দফতর রয়েছে। গত ২৭ অগস্ট ওই ভবন থেকে বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক-অনুগামীদের বচসার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের সঙ্গেও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
এর মধ্যেই ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দমকল বিভাগের তরফে বাড়ির মালিককে নোটিস দিয়ে সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার কথা বলা হয়। অভিযোগ, ওই দুই তলায় প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা যথাযথ নেই। সেই নোটিসের ভিত্তিতেই মালিকপক্ষ দফতর খালি করার নির্দেশ দেয়। যদিও গত ১১ সেপ্টেম্বর দমকলের নোটিসের উপর বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।অন্য দিকে, সম্পত্তির মালিক রামাদেবী গোয়েন্‌কার আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ২০২০ সালের ১ মার্চ বাড়ি লিজ় নেওয়ার বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যুব তৃণমূলের একটি চুক্তি হয়েছিল। তৃণমূলের হয়ে ওই চুক্তিতে সই করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। ১০ বছরের জন্য লিজ় দেওয়া হলেও চুক্তিতে বলা হয়েছিল, মালিকপক্ষ ‘সিসি’ বা প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়ার পরেই দফতরের ব্যবহার শুরু হবে। আইনজীবীর অভিযোগ, সেই শংসাপত্র দিতে পারেননি মালিকপক্ষ। তা সত্ত্বেও তৃণমূল জোর করে সম্পত্তির দখল নেয়।যদিও মালিকপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিষেক শিবির। তাদের পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই রাজ্যের শাসকদলের প্ররোচনায় ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকে তাদের উৎখাতের চেষ্টা চলছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *