প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- উপনির্বাচনের আগে ১৯ বছরের পুরনো মামলায় গ্রেফতার হওয়া নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে প্রাথমিক মত কলকাতা হাইকোর্টের। বৃহস্পতিবার তাঁর জামিনের আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন।’’ মামলার শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে মিলনকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার কথা তিনি বিবেচনা করছেন। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। শুক্রবার বিকেল ৪টেয় মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। আগামী উপনির্বাচনের আগে গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলা দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং সম্পত্তি লুটের মতো অভিযোগে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালের দু’টি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পুরনো মামলা সামনে এনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর হলদিয়া মহকুমা আদালত প্রথমে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এবং পরে কাঁথি আদালত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মিলনকে জেল হেফাজতে পাঠায়। এই পরিস্থিতিতে তাঁর আইনজীবীরা হাইকোর্টে জানান, আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। অথচ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার পরের দিন পর্যন্ত হেফাজতে থাকতে হবে প্রার্থীকে। ফলে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকছে না বলে আদালতে সওয়াল করেন তাঁরা।
আইনজীবীদের বক্তব্যের পর মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য গ্রহণ করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বৃহস্পতিবার শুনানিতে তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন।এদিকে, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা আরও কয়েকটি পুরনো মামলায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে আগেই হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ ছিল, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন কোনও মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা বা তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। ফলে একদিকে পুরনো মামলায় গ্রেফতারি, অন্যদিকে নির্বাচনে লড়ার সময়সীমা—দুইয়ের মাঝে মিলন প্রধানের জামিনের বিষয়টি এখন হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal