প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ফের আইনি ধাক্কা খেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ আর বহাল রাখল না প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি হয়। সেখানেই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের একটি ফৌজদারি মামলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং গ্রেফতারি নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, প্রায় ১৯ বছর পুরনো খেজুরির মামলায় আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। অথচ সিঙ্গল বেঞ্চ প্রার্থীর গ্রেফতারি ও তদন্তের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। মামলার নথি খতিয়ে দেখে সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশের আইনি ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যক্তি গ্রেফতার হলে তিনি আইন মেনে জামিনের আবেদন করতে পারেন। নতুন কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে আগাম জামিন চাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ফৌজদারি মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চ কীভাবে এই ধরনের রক্ষাকবচ দিতে পারে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। শুনানির সময় মিলন প্রধানের আইনজীবী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার এবং প্রচারের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তবে সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানায়, শুধুমাত্র নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে কোনও ব্যক্তিকে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়া যায় না।
আদালতের বক্তব্য, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে কোনও অভিযুক্তকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার আইনি সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় মিলন প্রধানের আইনজীবীকে। এরপরই সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের নির্দেশ খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal