Breaking News

নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরের আগেই রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল! সাংগঠনিক পদ থেকে ছেঁটে ফেলা হল ‘মন্ত্রী’দের, নতুন তালিকায় একাধিক চমক

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের ঠিক আগেই রাজ্য সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল পদ্ম শিবির। শুক্রবার নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যুব ও মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে বদল আনার পাশাপাশি একাধিক সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বেও নতুন মুখ নিয়ে আসা হয়েছে। একইসঙ্গে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে মন্ত্রিত্ব পাওয়া কয়েকজন নেতাকে দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ধাপে ধাপে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন করা হচ্ছে। রাজ্য পদাধিকারী, মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া সেল এবং মুখপাত্রদের তালিকা আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার অমিতাভ চক্রবর্তীকে ফের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তার পরদিনই শাখা সংগঠন ও জেলা স্তরে বাকি রদবদলের তালিকা প্রকাশ করল রাজ্য বিজেপি।
নতুন বিন্যাসে মন্ত্রী হওয়া নেতাদের একাধিক জনকে সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি পদে থাকা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল এবং দীপক বর্মনের পাশাপাশি সম্পাদক পদে থাকা শঙ্কর ঘোষও সাংগঠনিক দায়িত্ব হারিয়েছেন। তবে নজর কেড়েছে যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নাম। তিনি মন্ত্রী না হলেও রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁর অপসারণের কারণ নিয়ে দলের অন্দরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় স্তরে দলীয় কাজকর্ম নিয়ে কর্মীদের একাংশের অসন্তোষের জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। নতুন তালিকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রভাবও চোখে পড়ছে। বিশেষ করে রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গে কাজ করা একাধিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছেন। প্রবাল রাহা, শশী অগ্নিহোত্রী এবং রামপদ দাস নতুন বিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। রামপদ দাসকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন নীলাঞ্জন অধিকারী ও শঙ্কর চক্রবর্তী। যুব মোর্চার নতুন সভাপতি অমিত সামন্তও বনসল-ঘনিষ্ঠ হিসেবে দলের অন্দরে পরিচিত। ঘোষিত তালিকায় রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সতীশ ধোন্ড রয়েছেন শীর্ষ সাংগঠনিক কাঠামোয়। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে শশী অগ্নিহোত্রী, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সৌমিত্র খান, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বাপি গোস্বামীকে।
সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন সঞ্জয় সিং, প্রবাল রাহা, অনিন্দ্য ব্যানার্জি, দেবশ্রী চৌধুরী, রাজু বিস্তা, অমিতাভ রায়, তনুজা চক্রবর্তী, ফাল্গুনী পাত্র, রামপদ দাস, বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী, মনোজ পাণ্ডে এবং অনন্ত দেব অধিকারী। সম্পাদক পদে দীপাঞ্জন গুহ, মহাদেব সরকার, শাখারভ সরকার, সিন্টু সেনাপতি, মোহন শর্মা, বিভা মজুমদার, সঞ্জয় বর্মা, সোনালি মুর্মু, অজিত দাস, অনল বিশ্বাস, নীলাঞ্জন অধিকারী এবং শঙ্কর চক্রবর্তীকে রাখা হয়েছে।
কোষাধ্যক্ষ পদে কেদারাশিস বাপট এবং যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ হিসেবে প্রবীণ আগরওয়াল ও বিদ্যাসাগর মন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন। দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে থাকছেন প্রকাশচন্দ্র দাস। তাঁর সঙ্গে যুগ্ম দফতর সম্পাদক হিসেবে থাকছেন প্রত্যুষ মণ্ডল। এর আগে নিতিন নবীন, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারের মধ্যে বৈঠকে রাজ্যের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও আসন্ন পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই বৈঠকের পরই রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *