নিজস্ব সংবাদদাতা :-ভোটার তালিকায় নাম ‘ডিলিট’ হওয়ার আতঙ্কে দোলের দিনে জলপাইগুড়িতে মর্মান্তিক পরিণতি হল এক ব্যক্তির। তালিকায় নাম না থাকলে তাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ৬২ বছর বয়সী ফাস্ট ফুড বিক্রেতা গৌরাঙ্গ দে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম ছিল না তাঁর। তাই এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই আতঙ্কিত ছিলেন তিনি। জলপাইগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় তাঁকে নতুন করে ফর্ম পূরণে সাহায্য করলেও আতঙ্ক কাটেনি। মঙ্গলবার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবস্তি এলাকায় তার দেহ উদ্ধার হয়। মনে করা হচ্ছে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ব্যক্তি। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। গতকাল তিনি শুনানিতে অংশ নেন এবং ৬ নম্বর ফর্মও পূরণ করেন। তবুও গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগে ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, “ভারতে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার ভয় ছিল।” মঙ্গলবার সকালে বাড়ির বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানান স্ত্রী পপি দে। ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে স্ত্রী, মেয়ে ও পরিজনেরা। জলপাইগুড়ি পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাড়িতে দীর্ঘ আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তাঁরা।বাড়িওয়লা শম্পা সরকার বলেন, ‘‘গতকাল গৌরাঙ্গ একটা আতঙ্কের মধ্যে ছিল নাম না থাকার কারণে তিনি ভাবছিলেন তাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে সেই আতঙ্ক যেন আজ কাল হয়ে দাঁড়াবে বুঝে উঠতে পারিনি।”ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে যান জলপাইগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “উৎসবের দিনে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।” পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি|
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal