প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- শনিবার ভোরে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে পাইকপাড়া। খাস কলকাতার বুকে পর পর বিস্ফোরণ হয়েছে একটি পরিত্যক্ত ক্লাবে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ঘটনা শহরের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্লাবটিতে প্রোমোটিং করতে চাওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে চাপও দেওয়া হচ্ছিল কর্তৃপক্ষকে। দীর্ঘ দিন ক্লাবটি বন্ধ ছিল। বিস্ফোরণের পরেও ওই ক্লাব থেকে ছ’টি বোমা উদ্ধার করে বম্ব স্কোয়াড। ভোরের দিকে আচমকাই প্রবল শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয়রা দেখতে পান ক্লাবঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে এবং ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না তদন্তকারীরা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ক্লাবঘরের ভেতরে আগেই বিস্ফোরক মজুত করে রাখা ছিল। বিস্ফোরণের পর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি বোমা উদ্ধার করেছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুটি বোতলে তরল পদার্থও উদ্ধার হয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় শুধু ক্লাবঘরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আশপাশের বাড়িগুলিতেও তার প্রভাব পড়ে। সামনের একটি বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায়। এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, ক্লাবঘরের পিছনের দেওয়ালটি বেশ দুর্বল ছিল। সেই অংশ ভেঙে কেউ ভিতরে ঢুকে বিস্ফোরক রেখে গিয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।এলাকার অনেকেরই দাবি, ওই ক্লাবের জমি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই শরিকি বিবাদ রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়েও টানাপড়েন চলছে বলে জানা যাচ্ছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের জেরে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি পুলিশ| বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে সেখানে আসে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও। ভোটের মুখে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে। দিকে দিকে তারা রুটমার্চ করছে। তার মধ্যে এমন বিস্ফোরণে উদ্বেগে পাইকপাড়াবাসী। চিৎপুর থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal