প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- আরজি কর মামলায় যদি প্রয়োজন হয় সিবিআই নতুন করে সাজাপ্রাপ্ত এবং অন্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে যে কোনও ব্যক্তিকে জেরা করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানাল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সাজাপ্রাপ্ত অনেক কিছুই জানে বলে মনে হয়। ফলে যত আধুনিক পদ্ধতি, প্রযুক্তি রয়েছে, তার সব কিছু সিবিআই ব্যবহার করুক এই মামলায়।’’ পরিবারের তরফে ডিএনএ প্রোফাইল এবং অডিয়ো রেকর্ড আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, সিবিআই এই দু’টি নিয়ে তদন্ত করে তাদের রিপোর্ট দেবে। ১২ মে মামলার পরবর্তী শুনানি।
২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর হাসপাতালের পিজিটি তরুণীকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল বঙ্গে। সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তার বেহাল দশা নিয়ে ডাক্তাররা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছেন। বদলি হতে হয়েছে কলকাতার পুলিশ সুপারকেও। আর জি কর কাণ্ডের জেরে বছরভর রাজ্যে প্রতিবাদের পরিবেশ জারি ছিল। যদিও ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিবিআই তদন্তের পর সেই সঞ্জয়কেই দোষী সাব্যস্ত করে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় তার।আরজি করে কোথায় ডাক্তারি ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনা হয়েছিল, তা পরিদর্শন করতে চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছিল নির্যাতিতার পরিবার। সেই নিয়ে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘‘মৃতের পরিবার নতুন করে ঘটনাস্থল দেখতে চেয়েছে। তাতে সিবিআইয়ের কোনও আপত্তি নেই। তা হলে রাজ্যের আপত্তি কিসের? কারণ মামলায় তারা পার্টিও নয়। যদি নতুন করে হলফনামা পরিবার দেয় আর সিবিআই তদন্ত এগিয়ে নিতে চায়, তাতে রাজ্য আপত্তি করবে কেন?’’ এই নিয়ে হাই কোর্টের আরও পর্যবেক্ষণ, খড়্গপুর আইআইটি-তে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। তার পরে ফরেন্সিক ডাক্তারই প্রমাণ দেন, যে ওই ছাত্র খুন হয়েছিলেন। আরজি কর কাণ্ডের ক্ষেত্রেও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের ভাল ভাবে খতিয়ে দেখার জায়গা রয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal