নিজস্ব সংবাদদাতা :-মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) বকেয়া ইস্যুতে শীর্ষ আদালতের রায়ের পরও রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ না করায় আন্দোলনের পথে হাঁটছে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। বুধবার সংগঠনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে তারা ‘বন্ধ মোবারক’ কর্মসূচি পালন করবে। ওই দিন দফতরে উপস্থিত থাকলেও সংগঠনের সদস্যরা কোনও সরকারি কাজ করবেন না।সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতৃত্বের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তাই কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবিলম্বে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। আদালত একই সঙ্গে বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ কীভাবে এবং কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তার একটি রূপরেখা তৈরির নির্দেশও দেয়। ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, এই রায় মূলত সেই সময়ের জন্যই প্রযোজ্য।এছাড়াও আদালত এই রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রার নেতৃত্বে ওই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তরলোক সিংহ চৌহান, ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি এবং কেন্দ্রের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এমন রায়ের পরেও রাজ্য সরকারের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ তারা উপলব্ধি করেননি বলে মনে করেন সংগ্রামী যুক্ত মঞ্চের নেতা সন্দীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানতে পেরেছি সুপ্রিম কোর্টের রায় বিরুদ্ধে পাল্টা আবেদনে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। যেহেতু ৬ মার্চ রাজ্য সরকারকে প্রথম কিস্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত, সেহেতু আমরা ৬ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর ১৩ মার্চ প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করার জন্য আমাদের যতদূর যেতে হয় আমরা যেতে রাজি।’’ প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এমন কর্মসূচি পালন করলে পাল্টা রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর যে কোনও ধরনের ধর্মঘট ও বন্ধের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছেন। এমনকি সরকারি কর্মচারীরা বন্ধ-ধর্মঘটে শামিল হলে কড়া পদক্ষেপ করেছেন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal